হু হু করে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম - adsangbad.com

সর্বশেষ

Friday, September 11, 2020

হু হু করে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম


অনলাইন ডেস্ক : পেঁয়াজের বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও এই পণ্যটির দাম হু হু করে বাড়ছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাওরান বাজার, মগবাজার, মানিক নগর বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
পেঁয়াজের এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। খুচরা পেঁয়াজ বিক্রেতারা জানিয়েছেন, এক মাস আগে প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ৩০ টাকা। এখন সেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৪০ টাকা। আর একই সময়ে প্রতিকেজি আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩০ টাকা। অর্থাৎ এক মাস আগের আমদানি করা যে পেঁয়াজের দাম ছিল ২৫ টাকা কেজি, সেই পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকারও বেশি দরে।
এদিকে সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবিও বলছে, গত এক মাসে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। সংস্থাটির হিসাবে গত এক মাসে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৬০ শতাংশ। আর আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৭২ শতাংশ।
করোনার কারণে অনেকেরই আয় কমে গেছে। এই সময়ে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিকে বাড়তি চাপ হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ।
রাজধানীর কমলাপুরের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, ‘পেঁয়াজের বাজার দেখার বোধ হয় কেউ নেই। কোরবানির সময়ও ৩০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনেছি। এখন সেই পেঁয়াজ ৬৬ টাকা কেজি দরে কিনতে হলো।’ তিনি বলেন, ‘গত বছরের মতো আবারও পেঁয়াজের দাম বেড়ে আড়াইশ’-তিনশ’ টাকা যাতে না হয়, সে ব্যাপারে সরকারের উদ্যোগ থাকা উচিত।’প্রসঙ্গত, গত বছর এই সেপ্টেম্বর মাস থেকেই ৩০ টাকা  কেজি দরের পেঁয়াজের দাম কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়ে তিনশো টাকা ছাড়িয়ে যায়।
রাজধানীর মানিক নগরের সবজি বিক্রেতা আবুল কাসেম বলেন,  ‘মোকামে এখন পেঁয়াজের দাম বেশি। সেখান থেকে ৬০ টাকা দরে এনে ৬৫ টাকা দরে খুচরা বিক্রি করছেন তিনি।’ একই বাজারের ব্যবসায়ী ইউসুফ আলী বলেন, ‘ভারতে পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণে বাংলাদেশেও পেঁয়াজের দাম এখন বাড়তি। ’
এদিকে বাজারে পেঁয়াজ ছাড়াও সব ধরনের সবজি, আলু,  ব্রয়লার মুরগি, আদা ও দারুচিনির দামও কিছুটা বাড়তি। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ৩০ টাকা।  ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪৫ টাকা— যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০-১২৫ টাকা। তার আগের সপ্তাহে ছিল ১১০-১১৫ টাকার মধ্যে। এছাড়া বেড়েছে আলু দামও।  গত বছরের ২০ টাকা কেজি আলু এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে। তবে দাম কমার তালিকাতেয় রয়েছে ৫টি পণ্য।  এগুলো হলো— আটা, ময়দা, ছোট দানার মশুর ডাল, সয়াবিন তেল ও শুকনো মরিচ।

এদিকে  শীতের আগাম সবজি বাজারে আসতে শুরু করলেও দাম রয়েছে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। তবে গত সপ্তাহের চেয়ে দাম কিছুটা কম। শুক্রবার  শিমের কেজি বিক্রি হয়েছে ১৪০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২২০ টাকা।  বেগুন ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা পিস। ২৫০ গ্রাম কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়। ছোট আকারের ফুলকপি ও বাঁধাকপির প্রতি পিসের দাম  গত সপ্তাহের মতোই ৫০ টাকা। পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। গাজর ৮০ টাকা কেজি। উসতা ৭০ টাকা কেজি। বরবটি ৬০ টাকা কেজি। পটল ৪০ টাকা, কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি।

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages