আশুলিয়ায় মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী নির্যাতনে শিক্ষকসহ আটক ৪ - adsangbad.com

সর্বশেষ

Tuesday, September 15, 2020

আশুলিয়ায় মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী নির্যাতনে শিক্ষকসহ আটক ৪


আশুলিয়া প্রতিনিধি : আশুলিয়ায় একটি মাদ্রাসায় দুই শিশু শিক্ষার্থীকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় শিক্ষক হাফেজ ইব্রাহিম মিয়া ও হাফেজ ওবায়দুল্লাহসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাতে আশুলিয়ার শ্রীপুরের নতুননগর মদনেরটেক এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
শিশু নির্যাতনের ভিডিও গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়। প্রশাসন নড়েচড়ে বসলে গা ঢাকা দেন ওই মাদ্রাসার শিক্ষকরা
ভিডিওতে দেখা যায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ার শ্রীপুরের নতুননগর মদনেরটেক এলাকায় জাবালে নূর মাদ্রাসায় অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সামনেই শিক্ষক ইব্রাহিম মিয়া (৩৩) শিক্ষার্থী রাকিব হোসেনকে (৯) হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করছেন। এ সময় পাশেই দেখা যায়, হাত-পা বাঁধা আতঙ্কিত মাহফুজুর রহমান নামের আরেক শিক্ষার্থীকে।
নির্যাতনে দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে খবর দেওয়া হয় তাদের পরিবারকে। এদের মধ্যে শিশু রাকিব হোসেনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে তার পরিবার গ্রামের বাড়ি নিয়ে টাঙ্গাইলের একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। নির্মম শারীরিক নির্যাতনে শিশুটি এখন মানসিকভাবে আতঙ্কিত ও ভারসাম্যহীন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
মাদ্রাসাটির শিশু শিক্ষার্থীরা জানায়, দুজনকে মারধর করার সময় আহত শিশুরা তাদের না মারতে অনুরোধ করলেও মন গলেনি ওই শিক্ষকের।
এদিকে, গতকাল সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শিশু শিক্ষার্থীকে মারধরের ভিডিও ভাইরাল হলে ঘটনাস্থলে যায় আশুলিয়া থানা পুলিশ। এলাকাবাসী ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানায়।
রাতে অভিযান চালিয়ে শিক্ষক হাফেজ ইব্রাহিম মিয়া ও হাফেজ ওবায়দুল্লাহসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ।
এলাকাবাসী জানায়, দুই বছর আগে জাবালে নূর মাদ্রাসা চালু করেন আবদুল জব্বার নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা। ওই মাদ্রাসায় আগে দুইশ শিক্ষার্থী থাকলেও নির্যাতনের কারণে একে একে মাদ্রাসা ছেড়ে যান শিক্ষার্থীরা। মাত্র দুজন শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে ১৪ জন শিক্ষার্থী ছিল। সর্বশেষ নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর দুই শিশুকেও ওই মাদ্রাসা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন অভিভাবকরা।
জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন স্থানীয় ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম।
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন জানান, শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। 
এসআই জানান, মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন এলাকাবাসী। রাতেই তারা ওই দুই শিক্ষককে ধরে উত্তমমধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম কামরুজ্জামান বলেছেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages