জোড়া খুনের হত্যাকারী গ্রেপ্তার,হত্যার বর্ণনা শুনে চমকে উঠলেন পুলিশ - adsangbad.com

সর্বশেষ

Saturday, August 1, 2020

জোড়া খুনের হত্যাকারী গ্রেপ্তার,হত্যার বর্ণনা শুনে চমকে উঠলেন পুলিশ


ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : হত্যার বর্ণনা শুনে চমকে উঠলেন পুলিশ কর্মকর্তারা। মাত্র তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে টুকরা টুকরা করে হত্যা করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, এক বৃদ্ধ নারীকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছেন।
গ্রামে গ্রামে ফেরি করে কাপড় বিক্রি করেন তিনি। নাম কেসমত ফকির ওরফে দুলাল ফকির। বয়স হবে ৬৫ বছর।
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার শিশু জান্নাতুন নিসার (৩) খুনি তিনি। গত ১৭ মার্চ উপজেলা শহরের দরগাপাড়ার সবজি বিক্রেতা তোফাজ্জল হোসেন টুকু মিয়ার মেয়ে জান্নাতুন নিসাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সেই থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করার জন্য অভিযান চালিয়ে আসছিল। কিন্তু কিছুতেই নাগাল পাওয়া যাচ্ছিল না তাঁর।

অবশেষে পুলিশ স্থানীয় পত্রিকায় ছাপানো একটি খুনের খবরের সূত্র ধরে দুলাল ফকিরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে ঝিনাইদহের একটি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন দুলাল ফকির। ওই জবানবন্দির বর্ণনায় উঠে এসেছে কোটচাঁদপুরের শিশু জান্নাতুন নিসার হত্যার আসল রহস্য।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানান, কোটচাঁদপুর উপজেলা শহরের দরগাপাড়ার সবজি বিক্রেতা তোফাজ্জল হোসেন টুকু মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন ফেরিওয়ালা রাজবাড়ী জেলার কেসমত ফকির ওরফে দুলাল ফকির। চলতি বছরের ১৭ মার্চ বিকেলে বাড়িতে একা ছিল শিশু জান্নাতুন নিসা। সে বাড়ির মালিকের ছোট মেয়ে। তাঁকে নির্মমভাবে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে টুকরা টুকরা করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন ঘাতক। ফেরি করে কাপড় বিক্রি করা তাঁর পেশা। প্রকৃত নাম ঠিকানা কিংবা ছবি না থাকায় কিছুতেই তাঁকে ধরা সম্ভব হচ্ছিল না। হাল ধরে রাখেন তিনি (পুলিশ সুপার)। চাঞ্চল্যকর এ শিশু ঘাতককে ধরতে মরিয়া হয়ে ওঠেন তিনি।

পুলিশ সুপার আরো জানান, গত ২৪ মার্চ যশোরের অভয়নগর উপজেলার ধোপাদি এলাকার একটি বাড়িতে প্রকাশ্য দিনের বেলায় সুহাসিনী (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার সঙ্গে কাপড় বিক্রির সময় কথা কাটাকাটির জেরে দা দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন দুলাল ফকির। পালিয়ে যাওয়ার সময় জনতা হাতেনাতে ফেরিওয়ালা দুলাল  ফকিরকে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে আহত ওই নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অভয়নগর থানায় ডাকাতিসহ একটি খুনের মামলা করা হয় দুলালের বিরুদ্ধে।

ফেরিওয়ালার বেশে মানুষ খুনের এ খবর স্থানীয় একটি পত্রিকায় ছাপানো হয়। ওই খবরের সূত্র ধরে অভয়নগর থানা পুলিশের কাছ থেকে দুলাল ফকিরের ছবি সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ। সেই ছবি দেখানো হয় নিহত জান্নাতুন নিসার বাবাকে। তিনি নিশ্চিত করেন এই সেই খুনি, যে তাঁর মেয়ে জান্নাতুন নিসাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এরপর জান্নাতুন হত্যা মামলায় দুলাল ফকিরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

দুলালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুল আলম। আদালত দুইদিনের পুলিশ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

গত বৃহস্পতিবার দুলালকে যশোর কারাগার থেকে ঝিনাইদহে আনা হয়। গতকাল শুক্রবার তিনি ১৬৪ ধারায় স্থানীয় আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। শুধু তাই নয়, কীভাবে এ হত্যার ঘটনা ঘটানো হয়ে তার বিবরণও দিয়েছেন তিনি। সেই বিবরণ দেখে পুলিশ কর্মকর্তারা চমকে ওঠেন। অবুঝ শিশু জান্নাতুনকে প্রথমে আদর করে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় ধারালো বটি দিয়ে টুকরা টুকরা করে ভুড়ি বের করে হত্যা করেন দুলাল।

তোফাজ্জল হোসেন টুকু মিয়ার আরেক স্ত্রীর ছেলে ইউসুফ। তাঁর স্ত্রী সালমা বেগম। পাশাপাশি বাড়িতেই থাকে তারা। ছোট শাশুড়িকে শায়েস্তা করতে জান্নাতুনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন সালমা। দুলাল ফকির মাত্র ২০ হাজার টাকায় খুন করতে রাজি হয়। এরপর সুযোগ মতো নির্মমভাবে হত্যা করা হয় নিষ্পাপ জান্নাতুনকে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছে, ফেরিওয়ালার বেশ ধরে এই ব্যক্তি বছরের পর বছর অসংখ্য হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধ করেছে।

এ রিপোর্ট পাঠানোর সময় পুলিশ জানায়, দুলাল ফকিরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোটচাঁদপুর উপজেলা শহর থেকে সালমাকে আটক করা হয়েছে। তাঁর কাছ আরো রোমহর্ষক তথ্য জানার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages