ডেসকো'র ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণ কাজ চলছেই.. - adsangbad.com

সর্বশেষ

Sunday, May 10, 2020

ডেসকো'র ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণ কাজ চলছেই..


নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত বারিধারা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ৩৩ কেভি বিদ্যুত লাইনের কাজ চলছে সীমাহীন ঝুঁকিতে। যে কোনো মুহূর্তে এ লাইন নির্মাণস্থলে মারাত্মক ধরনের দুর্ঘটনায় সমূহ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় তটস্থ হয়ে উঠেছেন বাসিন্দারা।
জানা যায়, ডেসকো'র আওতায় বসুন্ধরা আবাসিকের প্রধান সড়ক ঘেষে ৩৩ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের গুরুত্বপূর্ণ লাইন নির্মাণ/ মেরামত/ সংযুক্তিকরণের কাজটি অতিসম্প্রতি শুরু করা হয়। অদক্ষ এক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দায়সারা গোছে বিদ্যুত লাইনটির নির্মান কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্পর্শকাতর এ লাইন নির্মানস্থলে নিরাপত্তামূলক সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই খোলামেলা ভাবে তড়িঘড়ি  মেরামত ও সংযুক্তির কাজ চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অথচ নির্মান কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা ডেসার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিদ্যুত লাইন নির্মানের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করারও প্রয়োজনবোধ করছেন না। তারা করোনা ভাইরাসের দোহাই দিয়ে নিজেদের কার্যালয়ে বসে, নয়তো ঠিকাদারের আমন্ত্রণে বিশেষ কোনো স্থানে বসে বসে লাইন নির্মাণ অগ্রগতির প্রতিবেদন প্রস্তুত করে থাকেন।
করোনা দুর্যোগের মধ্যেও সাধারন পর্যায়ের ৩৩ কেভির লাইন নির্মানের কাজটি ‘অতি জরুরি‘ চিহ্নিত করে সরকারি অতিরিক্ত অর্থ হাতানো হচ্ছে বলেও অভিয্গে পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আন্ডারগ্রাউন্ডের ওই বিদ্যুত লাইন নির্মানের ক্ষেত্রে যেসব নিম্নমানের সরঞ্জামাদি ব্যবহার করা হয়েছে তা টেন্ডার স্পেসিফিকেশনের সঙ্গেও কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া মাটির নিচে বিভিন্ন শাখা লাইনের সঙ্গে ৩৩ কেভির মূল লাইনের সংযোগের ক্ষেত্রে রীতিমত অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংযুক্তি (ক্যাবল জয়েন্টিং) স্থাপন করা হয়েছে। যে কোনো মূহূর্তে সেই জয়েন্টিংস্থলে বিস্ফোরণসহ ভয়াবহ কোনো দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন খোদ বিদ্যুত খাতের অভিজ্ঞ প্রকৌশলীরাও। কিন্তু ডেসকো'র কতিপয় পদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির দহরম মহরম থাকায় কেউ টু শব্দটি করতেও সাহস পাচ্ছেন না।
করোনা আতঙ্কে ডেসকো'র তদারককারী কর্মকর্তারা দূরে দূরে থাকায় ঠিকাদার সংস্থাটি বাধাহীন ভাবেই নিন্মামনের লাইন নির্মান কাজ চালাতে পারছেন বলেও প্রত্যক্ষদর্শঅরা জানিয়েছেন

অবৈধ সাব-কন্টাক্ট দেয়ার অভিযোগ
বারিধারা বসুন্ধরা এলাকায় ৩৩ কেভি‘র বিদ্যুত লাইন নির্মানে নানা অনিয়ম ও ঝুঁকি সৃষ্টির নেপথ্য কাহিনী জানা গেছে। ডেসকো থেকে বিদ্যুত লাইন নির্মানের জন্য আন্তর্জাতিক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এলসি-কে কার্যাদেশ প্রদান করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি এনজেলিক নামক স্থানীয় এক ঠিকাদারের অনুকুলে তা সাব কন্টাক্ট দিয়েছেন। যে কোনো কার্যাদেশ হস্তান্তর, সাব কন্টাক্ট প্রদান, পরিবর্তন-পরিবর্ধন, ডিজাইন নকশায় ভিন্নতা সৃষ্টি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং গর্হিত অপরাধ হিসেবে গণ্য হলেও তাতে পাত্তা দিচ্ছে না বিদেশি এ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। ইতিপূর্বেও এলসি‘র অনুকুলে দেওয়া বিদ্যুত খাতের টেন্ডার কাজ বিভিন্ন ঠিকাদারকে সাব কন্টাক্টে প্রদান করার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু ৩৩ কেভির বিদ্যুত লাইন নির্মানের গুরুত্বপূর্ণ কাজটিও অদক্ষ ঠিকাদারের হাতে তুলে দেয়ায় তা চরম ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্মানস্থলে সরেজমিন ঘুরে ফিরে নানা অনিয়ম ও নিন্মামনের কাজ চালাতে দেখা গেছে। সেখানে করোনা ঝুঁকির মধ্যেও কর্মরত কর্মি বা কর্মকর্তাদের কারো পরনে কোন সুরক্ষামূলক পোশাক পরিচ্ছদ নেই। এমনকি বিদ্যুতের ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকান্ডের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ব্যবহারের নির্দেশ থাকা সত্তেও বিশেষ ধরনের হ্যান্ডগ্লাভস, হেলমেট, বুট তারা ব্যবহার করছে না কেউ। তাছাড়া সাব কন্টাক্টে নির্মানকাজ পরিচালনাকারী এনজেলিকের কাছে আধুনিকমানের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি-ইকুইপমেন্ট যেমন নেই, তেমনি প্রশিক্ষিত জনবলও নেই বললেই চলে।
মাসিক ভাতা প্রদানের মাধ্যমে যেসব দক্ষ প্রকৌশলীকে এনজেলিকে কর্মরত দেখানো হয় তারা সবাই আন্তর্জাতিক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মি হিসেবে অন্য কোনো দেশে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের কেউ এনজেলিকের কর্মকান্ডে পেশাগত সহায়তা পর্যন্ত করতে পারেন না। ফলে প্রতিষ্ঠানটি হাতুড়ে ইঞ্জিনিয়ার দ্বারাই বিদ্যুত খাতের বড় বড় কাজে অংশ নিয়ে ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages