আশুলিয়ায় পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ - adsangbad.com

সর্বশেষ

Wednesday, April 15, 2020

আশুলিয়ায় পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ


আশুলিয়া প্রতিনিধি: আশুলিয়ায় ছাটাইকৃত শ্রমিকদের পুনর্বহাল ও বিনা কারনে শ্রমিক ছাটাইয়ের প্রতিবাদে কারখানার সামনে অবস্থান নিয়েছে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে জামগড়া এলাকার ফ্যাশন ফোরাম নামক একটি কারখানার সামনে অবস্থান নিয়েছেন তারা।

শ্রমিকরা জানায়, করোনা পরিস্থিতির জন্য যখন কারখানা বন্ধের ঘোষনা দেওয়া হয় এর মাঝেই আমাদের ১৯৪জন শ্রমিককে বিনা কারনে ছাটাই করে নোটিশ টানিয়ে দেয়। এই সময় ছাটাই করলে আমরা কি খাবো কোথায় যাবো। ইচ্ছা হলেই আমাদের কাজে নেবে আর ইচ্ছা হলেই আমাদের ছাটাই করবে এটা কেমন আইন। আমরা আমাদের চাকরি ফেরত চাই। চাকরি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত না পলে আমরা ঘরে ফিরে যাবো না।

ছাটাই হওয়া পোশাক শ্রমিক মিজান বলেন, কারখানা গত মাসের ২৮ তারিখে ডিউটি করার পর ছুটি দেয়। পরে বন্ধ থাকাকালীন অবস্থায় ৪ এপ্রিল ছাটাইয়ের নোটিশ দেয়। আমরা কারখানাকে আমাদের বাবা-মা মনে করি। যে সময়টা আমাদের আগলে রাখার দরকার ওই সময়টাই আমাদের পেটে লাথি দিতে চাচ্ছে কতৃপক্ষ। এভাবে ছাটাই করলে আমরা খাবো কি। এখন তো সবই বন্ধ। বাসাভাড়া, দোকান বিল কিভাবে দেবো? আত্মহত্যা ছাড়া আর পথ দেখছি না। তাই মরে গেলে এখানেই মরে যাবো। যতক্ষণ দাবি আদায় না হবে ততক্ষন এখানেই অবস্থান নিয়ে থাকবো। আমাদের চাকরি ফেরত চাই আমরা।

এব্যাপারে কারখানাটির অ্যাডমিন ম্যানেজার মেজবাহ উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ছাটাই হওয়া শ্রমিকদের বেতন প্রদান করা হচ্ছে তাই তারা একত্রিত হয়েছেন।

এব্যাপারে স্বাধীন বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আল কামরান বলেন, করোনাকালীন বন্ধের সুযোগ নিয়ে কারখানা কতৃপক্ষ ১৮৯ জন শ্রমিককে ছাটাই করেছেন, যা অমানবিক। আমি তাদের সবাইকে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানাই।

এছাড়া বকেয়া সাভারের ভাগললপুর এলাকায় বকেয়া বেতনের দাবিতে বেঙ্গল সিরামিক্সের শ্রমিকরা কারখানাটির সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল থেকেই তারা এই বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। শ্রমিকরা বলেন, আমাদের কারখানায় প্রায় ৫০০ শ্রমিক কাজ করেন। সবাই ৩ মাসের বেতন পাবেন। গত মাসের ২৬ তারিখে ১/২ হাজার টাকা দিয়ে কারখানা ছুটি ঘোষণা করে। এখন পর্যন্ত কেউ খোজ খবর নেয় না। আমরা না খেয়ে আছি। বাড়িওয়ালা গেটে বাহিরে থাকতে বলে। আমরা এখন কি করবো বুঝতে পারছিনা। এব্যাপারে কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিশ্বজিৎ রায়ের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায় নি।

এদিকে ছুটির দাবিতে আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার তানজিনা অ্যাপারেলস লিমিটেড, আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার আনজির সুয়েটার লিমিটেড, বকেয়া বেতনের দাবিতে খেজুরবাগান এলাকার রেডিয়েন্স ফ্যাশন লিমিটেডে (ব্যাংক একাউন্ট ছিল না তাই বেতন পায়নি), কুটুরিয়ার জেট এ এপারেলস লিমিটেড, তৈয়বপুরের তাজির এপারেলস লিমিটেড কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে শ্রমিকরা। এসময় বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে তারা। অন্যদিকে আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার জে এল সুয়েটার লিমিটেড খোলা রয়েছে।

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages