করোনায় মানবেতর জীবনযাপন করছে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকরা - adsangbad.com

সর্বশেষ

Sunday, April 12, 2020

করোনায় মানবেতর জীবনযাপন করছে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকরা


মাসুদ রানা :  শিক্ষার্থীদের করোনা ভাইরাসের সংক্রামন রুখতে নিজ নিজ গৃহে অবস্থানবের জন্য বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পর গত ১৮ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। জানা গেছে ঈদুল ফিতরের আগে আর খোলা যাচ্ছে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো। বেসরকারী কিন্ডারগার্টেন স্কুল গুলোও তার ব্যাতিক্রম নয়।  যার ফলশ্রুতিতে এই ক্রান্তিলগ্নে চরম বিপাকে পড়েছে সারা দেশের ন্যায় সাভার আশুলিয়াতে গড়ে উঠা প্রায় শত শত স্কুলের কর্মরত বেসরকারী কিন্ডারগার্টেন স্কুলের কয়েক হাজার শিক্ষকবৃন্দ।       স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা মাসিক বেতন দেয়নি। যার দরুণ বেশীরভাগ স্কুলের শিক্ষকরা বেতন পায়নি। এর ফলে অনেকে মানবেতরভাবে জীবন-যাপন করছেন। । অত্র অঞ্চলে কিন্ডারগার্টেন স্কুলে কর্মরত শিক্ষকরা জানান, স্কুল থেকে মাসিক বেতন এখনো পাইনি, আমাদের অর্ধহারে অনাহারে দিন কাটছে অথচ সরকারের এতো ত্রাণ, এতো প্রণোদনা কিছুই আমাদের ভাগ্যে জোটেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ ক"জন শিক্ষক এই প্রতিবেদককে জানান, সাভার আশুলিয়ায় শত শত কিন্ডারগার্টেন স্কুলের কয়েক হাজার শিক্ষক শিক্ষিকাদের মাসিক বেতন বড়জোর ৪/৫ হাজার টাকা এই স্বল্প বেতনে তাদের সংসার চলে না, বাড়তি আয় হিসেবে তারা কিছু ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়িয়ে সংসার চালান, করোনা ভাইরাসের পার্দুভাবের কারণে তাদের সব বন্ধ। তার উপর স্কুল কতৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের কাছ থেকে বেতন না পাওয়ার অজুহাতে আমাদের বেতন দিচ্ছে না। তারা আরো জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে কিন্ডারগার্টেন স্কুল গুলি যদি আরো দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে তবে না খেয়ে মরা ছাড়া তাদের আর কোন উপায় থাকবেনা ।  তারা অবিলম্বে স্কুল ম্যানেজম্যান্ট কমিটির নিকট তাদের মাসিক বেতন ভাতা পরিশোধের জোর দাবী জানায় এবং সেই সাথে স্থানীয় প্রতিনিধিদের তাদের এই দুঃসময়ে পাশে দাড়ানোর আহবান জানান। 
শিক্ষকদের বেতন না দেয়া প্রসঙ্গে বেশ কয়েকটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি অভিভাবকদের বেতন না দেয়া কেই দুষলেন। অনেকে দ্রুত বেতন ভাতা পরিশোধের আশ্বাস দেন। 

অন্যদিকে ব্যাতিক্রম রয়েছে  আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়নের ভাদাইল এলাকায় অবস্থিত খাজা গরিবে নেওয়াজ প্রিপারেটরি হাইস্কুল কতৃপক্ষ। তারা এই মহামারির মাঝেও  সময়মতো তাদের শিক্ষকদের মাসিক বেতন প্রদান করে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
পাশা পাশি স্কুলের গরিব ও দরিদ্র পরিবারের ছাত্র-ছাত্রী ও কর্মরত শিক্ষক শিক্ষিকা এবং কর্মচারিদের নিয়মিত খাদ্য সহয়তা দিচ্ছেন ।
এ ব্যাপারে খাজা গরিবে নেওয়াজ প্রিপারেটরি হাইস্কুলের পরিচালক বিশ্বনাথ বিশ্বাস জানান, আমরা দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের  মানবিক দিক বিবেচনা করে খাদ্য সহয়তা দিয়ে যাচ্ছি  এবং শিক্ষকদের যেহেতু সংসার আছে তাদের পরিবার পরিজন রয়েছে সবদিক বিবেচনা করে অত্র বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীসহ মোট ৩০জন নিয়োজিত আছে।আমরা আমাদের নিজস্ব তহবিল থেকে তাদের প্রত্যেকের বেতন ভাতা পরিশোধ করে দিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি শিক্ষকরা একটি সভ্য জাতি গঠনে অন্তরায়। তাছাড়া তারা আমাদের পরিবারের অংশ, তাদের দেখভালের দ্বায়িত্ব আমাদের,আমি অন্যানো কিন্ডারগার্টেন স্কুল কতৃপক্ষ কে বলবো, আপনার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের বেতন ভাতা দ্রুত পরিশোধ করুন। জানি আপনাদের দিতে কষ্ট হবে তবুও এই দুঃসময়ে মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের বেতনভাতা পরিশোধ করুন।
       

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages