লাঞ্ছনাকর বা অপমানজনক শাস্তি বাংলাদেশের আইনে স্বীকৃত নয় - adsangbad.com

সর্বশেষ

Saturday, March 28, 2020

লাঞ্ছনাকর বা অপমানজনক শাস্তি বাংলাদেশের আইনে স্বীকৃত নয়

কাউসার হোসেন : সাম্প্রতিক কালে একজন সরকারী কর্মকর্তা কর্তৃক দুইজন বয়স্ক ব্যক্তিকে শাস্তি হিসেবে কান ধরে উঠবস করানো এবং নিজে তার ভিডিও ধারনের বিষয়টি প্রযুক্তির সহায়তায় সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ায় দেশের সর্বস্তরে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে।অনেকেই নিজের মত করে তার মতামত প্রকাশ করে উক্ত ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।অনেকেই মানতে পারতেছে না যে, দুজন বয়স্ক বা বৃদ্ধ লোককে এমন শাস্তি দিল কিভাবে?কিন্তু শুধু বয়স্ক কেন?কোন তরুন বা যুবক বা শিশুকেও কী এমন শাস্তি দেয়ার আইনগত কারো অধিকার আছে?প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক নাগরিকের উচিত আইন এবং সরকারী নির্দেশাবলী মেনে চলা,কেউ তা অমান্যকরলে যথাযথ কর্তৃপক্ষ তাকে আইনগতভাবে শাস্তি দিতে পারবে,আইনের বাহিরে গিয়ে বা আইনের অপব্যবহার করে নয়।অপরাধ যাই হোক অপরাধীকে আইনগতভাবে স্বীকৃত শাস্তি প্রদান করা যাবে নিজের খেয়ালখুশি মত নয়।
প্রকাশ্যে কাউকে কান ধরে উঠবস করানোর মত লাঞ্ছনাকর বা অপমানজনক শাস্তি বাংলাদেশের আইনে স্বীকৃত নয় উল্টো তা সংবিধান এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার পরিপন্থি।গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন হল সংবিধান।সংবিধানের তৃতীয় ভাগের ৩৫ নং অনুচ্ছেদে দন্ড সম্পর্কে সুস্পষ্ট বিধান উল্লেখ আছে।


উক্ত অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোন ব্যক্তিকে নিষ্ঠুর,অমানবিক বা লাঞ্ছনাকর দন্ড বা নির্যাতন করা যাইবে না কিংবা কাহারো সহিত অনুরূপ ব্যবহারও করা যাইবে না।পাশাপাশি বাংলাদেশের দন্ডবিধির ৫৩ নং ধারার মাধ্যমে যে ৫ ধরনের শাস্তিকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে সেগুলো হল-১)মৃত্যুদন্ড ২)যাবজ্জীবন কারাদন্ড ৩) যেকোন বর্ননার কারাদন্ড যা সশ্রম বা বিনাশ্রম হইতে পারে ৪) সম্পত্তির বাজেয়াপ্তি ৫)অর্থদন্ড বা জরিমানা,যার মধ্যেও কান ধরে উঠবস করানোর মত কোন শাস্তির কোন স্বীকৃতি নেই।প্রকাশ্যে কানধরে উঠবস করানো সর্বজনস্বীকৃত একটি লাঞ্ছনাকর বা অপমানজনক শাস্তি যা কোন অবস্থাতেই কোন কর্তৃপক্ষ সংবিধান বা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোন নাগরিক বা কাউকে দিতে পারেনা।

নিষ্ঠুর,অমানবিক বা লাঞ্ছনাকর শাস্তি,নির্যাতন বা অনুরূপ ব্যবহার না করার জন্য সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হিসেবে তার স্বীকৃিতি দেয়া আছে সেহেতু কোন কর্মচারী বা কর্তৃপক্ষ এমন দন্ড দিলে বা আচরন করলে সরকারের উচিত তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করা এবং সরকার তা না করলে মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশন নিজে অথবা জনগন কর্তৃক রীটপিটিশন দায়েরের মাধ্যমে যথাযথ প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারে।

রাষ্ট্রের সর্বস্তরের সবাই আইনমেনে মানবিক ও সভ্য আচরনের মাধ্যমে আমাদের দেশটাকে সুন্দর ও বাসযোগ্য গড়ে তুলি যার সুফল বয়ে যাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম।

লেখকঃ সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবি,কলামিস্ট এবং আইনগ্রন্থপ্রনেতা

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages