বরিশালের রাজাকারের তালিকায় বঙ্গবন্ধুর বেয়াই - adsangbad.com

সর্বশেষ


Wednesday, December 18, 2019

বরিশালের রাজাকারের তালিকায় বঙ্গবন্ধুর বেয়াই

অনলাইন ডেস্ক: মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত রাজাকারের তালিকা নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। যদিও সময় যতো যাচ্ছে তালিকা থেকে ততো নতুন নতুন তথ্য আসছে। যা বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এরইমধ্যে রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম আসায় বরিশালে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ।
এরইমধ্যে তালিকায় বঙ্গবন্ধুর স্বজন ও পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট কালরাতে ঘাতকের হাতে নিহত শহীদ সেরনিয়াবাতের বাবা আব্দুল হাই সেরনিয়াবাতের নাম দেখে অবাক হয়েছেন তার উত্তরসূরিরা। সদ্য প্রকাশিত রাজাকারের তালিকার বরিশাল বিভাগের অংশে ২০ নম্বর পৃষ্ঠার ৫৮ নম্বর সিরিয়ালে নাম রয়েছে আবদুল হাই সেরনিয়াবাতের।
স্বজনদের দাবি ১৯৭১ সালে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আব্দুল হাই সেরনিয়াবাত। ১৯৭১ সালে তখন তার বয়স ষাটের ওপরে। স্বপ্ন দেখতেন স্বাধীন দেশের।
দৃঢ় মনোবল আর প্রবল ইচ্ছাশক্তি দিয়ে বয়সের বাধা অতিক্রম করেছিলেন আব্দুল হাই সেরনিয়াবাত। এলাকার যুবক, তরুণসহ নানা বয়সী মানুষকে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাতেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, অস্ত্র দেওয়া, খাদ্য সরবরাহসহ বহু কাজে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেন আব্দুল হাই সেরনিয়াবাত।
এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে দাফতরিক বিভিন্ন কাজ সম্পাদনের দায়িত্ব ছিল তার ওপর। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা এই মানুষটির নাম রাজাকারের তালিকায় প্রকাশিত হওয়ায় বিস্মিত তার সন্তান ও স্বজনরা। তারা এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও হতবাক। তার গ্রামের বাড়ি আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরালে বইছে নিন্দার ঝড়।
অবিলম্বে এ তালিকা সংশোধন করে ওই পরিবারের সম্মান রক্ষার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এই চক্রান্তের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আবদুল হাই সেরনিয়াবাত কোনোভাবেই মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কাজে জড়িত ছিলেন না বলে জানিয়ে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এএমজি কবির ভুলু বলেন, তার নাম রাজাকারদের তালিকায় থাকাটা খুবই দুঃখজনক।
আর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বরিশাল মহানগর ইউনিটের কমান্ডার মোকলেছুর রহমান বলেন, আমরা যে তালিকা দিয়েছিলাম, তা প্রকাশিত হয়নি।
মুক্তিযোদ্ধা এনায়েত হোসেন চৌধুরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় থেকে রাজাকারের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। তারপর প্রকৃত রাজাকারের নামের তালিকা পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। তবে রাজাকারের তালিকায় বরিশালের যেসব মুক্তিযোদ্ধাদের নাম এসেছে তা পাঠানো রাজাকারের তালিকায় ছিল না।

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages