শীর্ষ নেতাদের মতামত নিয়েই দুর্নীতিরবিরোধী অভিযানের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর - adsangbad.com

সর্বশেষ

Thursday, September 26, 2019

শীর্ষ নেতাদের মতামত নিয়েই দুর্নীতিরবিরোধী অভিযানের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিনিধি:
বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বড় ধরনের দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবিরোধী সমন্বিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে চায় সরকার। সে জন্য এনবিআরের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনকে এ কাজে সক্রিয় করা হবে।
পর্যায়ক্রমে সমন্বিত এ অভিযান চলবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউ ইয়র্ক থেকে সরকারের নীতিনির্ধারকদের এমন নির্দেশনা দিয়েছেন। র‌্যাব অভিযান শুরু করার পর অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকার ও আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নিউ ইয়র্ক যাওয়ার আগে গণভবনে দলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তৈরি করা একটি প্রতিবেদন পড়ে শোনান। প্রধানমন্ত্রী ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সরকারি দলের নেতাদের সম্পর্কে অভিযোগগুলো বর্ণনা করে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা জানতে চান। তখন সেখানে উপস্থিত আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘অ্যাকশনে’ যাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি নিজেও ওই নেতাদের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। এরপর র‌্যাব মতিঝিল ক্লাবপাড়ায় ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চালায়।
গ্রেপ্তার করা হয় যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ ভূঁইয়াসহ তাঁর সহযোগীদের। পরে দেহরক্ষীসহ গ্রেপ্তার হন যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা জি কে শামীম।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউ ইয়র্কে পৌঁছেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারকের সঙ্গে কথা বলে অভিযানের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন। এ সময় তিনি র‌্যাবের সঙ্গে অন্যান্য সংস্থা সমন্বিত অভিযানে না নামায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলমান দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানকে আরো দীর্ঘায়িত করার নির্দেশ দেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত মঙ্গলবার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযান চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। যারা অপরাধী তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।
একই দিন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন এটা অত্যন্ত পজিটিভ। দুর্নীতি বা অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর যে কঠোর অবস্থান এ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এতে অনেক ক্রাইম কমে যাবে। তাই এটাকে আমি স্বাগত জানাই। ’
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর আরেকটি বৈঠকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ এবং বিতর্কিত নেতাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, একজন তো ক্রসফায়ারের (ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট) হাত থেকে বেঁচেছে। আরেকজন (খালেদ) প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে চলাফেরা করে। অথচ পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার সময় কাউকে পাওয়া যায়নি। তাঁর সরকারের শাসনামলে এমন কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর কার্যালয়ের প্রতিবেদন পড়ে শোনানোর সময় সেখানে উপস্থিত নেতাদের অপরাধের সঙ্গে যুক্তদের অতীত ও বর্তমান অবস্থার বর্ণনা করেন। জানতে চান, এরা কি সরকারের উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে দেবে না? তারা কাদের কথায় এতটা বেপরোয়া হয়েছে? যেকোনো মূল্যে ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করা হবে বলে দৃঢ় মতামত ব্যক্ত করেন তিনি।
ওই দিন গণভবনে উপস্থিত ছিলেন এমন এক উচ্চপর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতা কালের কণ্ঠকে জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সরকারি দলের নাম ব্যবহার করে বা দলীয় পরিচয়ে আর কারা কারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত তাদের বিস্তারিত আরো খোঁজ নেওয়া হবে বলে জানান। 
জানা গেছে, এর পরই প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা সবগুলো গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন যাচাই করেন। প্রতিবেদনে দেড় শতাধিক নেতা ও ব্যক্তির অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার তথ্য উঠে আসে। প্রাথমিক এই তালিকায় একাধিক বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা, সরকারদলীয় সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশনের এক মেয়রসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের বিতর্কিত নেতাকর্মীরা রয়েছেন। যাঁদের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী, ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, কর্মরত ও অবসরে যাওয়া কয়েকজন প্রকৌশলী এবং বেশ কিছু সাবেক ও বর্তমান উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তার নাম রয়েছে। ওই প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে কার সম্পর্কে কী অভিযোগ তারও উল্লেখ করা হয়েছে।
দলের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল বুধবার কালের কণ্ঠকে জানান, কিছুদিন আগে তিনিসহ আওয়ামী লীগের দুই কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মির্জা আজম গণভবনে দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে যান। এ সময় ক্ষুব্ধ দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ নেতা নানক ও আজমকে যুবলীগের সাবেক শীর্ষ নেতা হওয়ায় সংগঠনটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বর্তমান সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে আসা চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্পর্কে অবহিত করেন। শেখ হাসিনা বলেন, তার কত সাহস যে আঞ্জুমান মুফিদুলের কাছে পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা চেয়েছে। এ সময় মির্জা আজম বলেন, নেত্রী যা শুনেছেন তা ঠিক নাও হতে পারে। তখন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা তাঁদের জানান, তাঁর কাছে সঠিক তথ্য রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি ও রেহানা আমাদের জাকাতের টাকা আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামকে দিই। আর সেখানে সম্রাট চাঁদা দাবি করে! তার কত সাহস। সে কি মরবে না?’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই বক্তব্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম ও ছাত্রলীগের সাবেক ওই কেন্দ্রীয় নেতা চুপ করে শোনেন। তাঁরা এ নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করেননি বলে জানা গেছে।

আ দে সং/ম.রানা/০৯.১৯ইং

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages